
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সার্ভিসিং সেন্টার থেকে আব্দুর রহমান (৫৬) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জুয়েল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করার পর জুয়েলকে নিজ হাতে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল খালেক।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চব্বিশ টিউবল এলাকায় একটি সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতর থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুর রহমান ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার মৃত আলিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই সার্ভিসিং সেন্টারে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে আব্দুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন আরেক নিরাপত্তাকর্মী তওয়াবুর রহমান। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর জুয়েল পরিবারের সদস্যদের কাছে আব্দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পরে জুয়েলকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “জুয়েল তার পরিবারের কাছে নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আমরাও চাই, তার উপযুক্ত শাস্তি হোক।”
জুয়েলের বাবা আব্দুল খালেক বলেন, “আমার ছেলে যেহেতু হত্যা করেছে এবং আমাদের কাছেও তা স্বীকার করেছে, তাই আমি নিজ হাতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আইন তাকে যে সাজা দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, “জুয়েল নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
মন্তব্য করুন