
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের কৃষিখাতকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষায়িত পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে ‘মাহবুব আলম’ নামের এক কৃষি শিক্ষার্থী এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি, স্মার্ট ফার্মিং এবং ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে হলে মাঠপর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ত এই বিশাল শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
মেধা বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা সীমিত উচ্চশিক্ষা
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মতে, তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, কৃষি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থীর মেধা, শ্রম ও সম্ভাবনা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই থমকে যাচ্ছে। এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।
সংযুক্ত পোস্টার এ কৃষি শিক্ষার্থী মাহবুব আলমের একটি নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়েছে
“৪র্থ শিল্পবিপ্লব এবং কৃষিতে এআই ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ দেশের কৃষিবিপ্লব ঘটাতে চাইলে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি।”
বিবৃতির শেষাংশে শিক্ষার্থীরা তাদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন:
“আমরা আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন চাই। আমরা অনিশ্চয়তা নয়, শিক্ষার অধিকার চাই।”
“আমরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের কৃষির ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।”
হাজারো কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের নীতিপ্রণেতাদের সদয় দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মন্তব্য করুন