
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে বিষ প্রয়োগে একটি গর্ভবতী গাভীসহ তিনটি গরু মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতিয়ানী গ্রামের দর্জি মোতালেব শেখের ছেলে আমিরুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, বাড়িতে তাঁর স্ত্রী গরুগুলো লালন-পালন করতেন। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও গরুগুলোকে গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিষক্রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, পরে একে একে তিনটি গরু মারা যায়।
মারা যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি ছিল আট মাসের গর্ভবতী গাভী এবং অপরটি দুই বছর বয়সী বাছুর। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গর্ভবতী গাভীটির পেটে থাকা অনাগত বাছুরসহ মোট তিনটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয়দের ধারণা, গরুগুলোকে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা একজন গ্রামীণ চিকিৎসকও গরুগুলোর মৃত্যুর লক্ষণ দেখে বিষক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে গোয়ালঘরে বিষ প্রয়োগ করে গরুগুলো হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গর্ভবতী গাভীটির আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা এবং দুই বছর বয়সী বাছুরটির মূল্য ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা—সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাঁদের।
তিনি জানান, ঢাকায় চাকরি করায় বাড়িতে তাঁর স্ত্রী গরুগুলোর দেখাশোনা করতেন। গরুগুলো ছিল তাঁদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও আয়ের অন্যতম উৎস, একসঙ্গে তিনটি গরু মারা যাওয়ায় পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমিরুল ইসলাম ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তদন্তের মাধ্যমে গরুগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মন্তব্য করুন