
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এস্টেট শাখার কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল ওরফে আলাল নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ে হাফেজ মনির হোসেনের হার্ডওয়্যার দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, ওই সময় দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোন ধরার পর অপর প্রান্ত থেকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে নম্বরটি স্থানীয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমকে দেখালে তিনি সেটি শাহজালালের নম্বর বলে শনাক্ত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর শাহজালাল হাতে লাঠি নিয়ে সেখানে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন খলিলুর রহমান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের পর তিনি গুরুতর ব্যথা অনুভব করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শাহজালাল তাকে ফোন করে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন। পরে তার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে শাহজালাল আলাল বলেন, ওই ঘটনার সময় খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তার ভাষ্য, খলিলুর রহমান তার ভাইয়ের দোকানে গেলে তিনি তার সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং তার ভাষাও অশ্রাব্য ছিল। একপর্যায়ে তিনি লাঠি দিয়ে মারতে গিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন।
অভিযুক্ত শাহজালালের দাবি, স্থানীয় একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, শাহজালাল আলাল কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় সংঘটিত একটি ঘটনার মামলাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই মামলার অভিযোগ ও দায়েরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী যাচাইসাপেক্ষ।
কুবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, খলিলুর রহমানের কাছ থেকে একটি অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। তিনি থানায়ও অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তার নিরাপত্তার বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরে বাদীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তকে খুঁজতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন