
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আলোচনার মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ঘটনাটির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় ফেরদৌসী মিষ্টির নামও আলোচনায় আসে। তবে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত ও অভিযোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই কমিটিতে ফেরদৌসী মিষ্টি যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ফেরদৌসী মিষ্টি চলতি বছরের ৩ মে বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে হলো।
মিরপুরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন ফেরদৌসী। ২০০২ সালে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। তার স্বামী প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ফেরদৌসীর বড় ভাই নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর ফেরদৌসী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন।
এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি নিয়ে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও সাম্প্রতিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালে সমিতির সভাপতি হিসেবে জমি বরাদ্দের আবেদনে ফেরদৌসীর স্বাক্ষর থাকার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সংসদীয় আসনটি শূন্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন