
বগুড়া মহানগরে কানছগাড়ী এলাকায় একটি পথকুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. স্বপন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বগুড়া। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া মহানগরের বকসিবাজার এলাকার ১ নম্বর (মেইন) গেট সংলগ্ন ঢালাই সড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন দুপুরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বগুড়া সদর শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন খবর পান যে, বগুড়া মহানগরের কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের গলিতে একটি কুকুর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে।
পরে তিনি স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে সাদা-কালো রঙের আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে কুকুরটিকে দ্রুত জলেশ্বরীতলার ডা. আকাশ পেটস কনসাল্টেন্সিতে নেওয়া হয়। সেখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বগুড়া সদর এবং জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রমে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফর রহমান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম অংশ নেন।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, কানছগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. স্বপন ওই কুকুরটির ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ২৯ জুন পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন