
বান্দরবান শহরের যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক বাস টার্মিনাল ও ৫০০ ফুট দীর্ঘ টানেল। কিন্তু এসব অবকাঠামো নির্মাণের পরও শহরের প্রধান সড়কে বাস-ট্রাক পার্কিংয়ের পুরোনো চিত্রই রয়ে গেছে। নির্ধারিত টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও সড়কের ওপর দাঁড়িয়েই চলছে যাত্রী ওঠানামা ও টিকিট বিক্রি।
শহরের প্রবেশমুখ থেকে হিলবার্ড এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও আবার সড়কের পাশে রাখা হচ্ছে ট্রাক। এর ফলে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে নিয়মিত তৈরি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শহরের যানজট কমাতে ২০২৩ সালে হাফেজঘোনা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। সেখানে বাস পার্কিংয়ের পাশাপাশি টিকিট কাউন্টার ও যাত্রীসেবার বিভিন্ন সুবিধা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টার্মিনালে যাতায়াতের সুবিধার জন্য পরে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি আধুনিক টানেল। শহরের যানজট কমানো, সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এসব অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। নির্ধারিত টার্মিনালের পরিবর্তে শহরের প্রধান সড়কের আশপাশেই বিভিন্ন পরিবহনের বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। পুরবী-পূর্বানী, মারসা, সাঙ্গুসহ বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টারও রয়েছে সড়কসংলগ্ন এলাকায়। কাউন্টারগুলোর আশপাশে গড়ে উঠেছে চায়ের দোকানসহ নানা ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরও পরিবহনগুলো সড়ককেন্দ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চালকরা নিজেদের সুবিধামতো সড়কের পাশে বাস থামিয়ে যাত্রী তুলছেন ও নামাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, টার্মিনালে যাওয়ার জন্য নির্মিত টানেলের ভেতরেও যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে সেটির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল ও রফিকসহ কয়েকজন বলেন, “নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল থাকার পরও সড়কের পাশে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। টানেলের ভেতরেও বাস-ট্রাক পার্কিং করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শহরের যানজট ও মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।”
ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, “বাসচালকরা বিশৃঙ্খলভাবে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান ও মামলা করা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বান্দরবান বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর ইসলাম বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পার্কিং করা বাস ও ট্রাকের বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, নতুন বাস টার্মিনালের নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শহরের সৌন্দর্য ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেউ অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনাল ও টানেল কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শহরের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন এসব অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় তারা।
মন্তব্য করুন