
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
১১ বোর্ডে গড় পাস ৬২.২৫ শতাংশ
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল হিসাব করলে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার হয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর এসব বোর্ড মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে।
ইংরেজি ও গণিতে বেশি ফেল
বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিপরীতে আইসিটি বিষয়ে পাসের হার সবচেয়ে বেশি।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে ঢাকা বোর্ডে ফেল করেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। রাজশাহীতে এ হার ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ, কুমিল্লায় ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, যশোরে ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বরিশালে ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সিলেটে ৩০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, দিনাজপুরে ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
গণিতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডে অকৃতকার্যের হার ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। রাজশাহীতে ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, কুমিল্লায় ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, যশোরে ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বরিশালে ২২ দশমিক ০২ শতাংশ, সিলেটে ২৪ দশমিক ০৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ২৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
ছাত্রীদের সাফল্য বেশি
ফলাফলে এবারও ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
৩১২ প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশে থাকা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর মধ্যেও একটি কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এবারের ফলাফলে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন।
অনলাইনে ফল, এসএমএসেও জানা যাবে
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এ ছাড়া যেকোনো মুঠোফোন থেকে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফলাফল সরবরাহ করা হবে না।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ থেকে ১৭ আগস্ট
ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে এ আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার এবং সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫—দুই সূচকেই আগের বছরের তুলনায় পতন ঘটেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের বিষয়টিও ফলাফল বিশ্লেষণে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
মন্তব্য করুন