
বগুড়ার ধুনটে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি টিনশেড গুদামঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গুদাম মালিককে রামদা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। আগুনে গুদামঘরসহ মজুত করা পাট ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য পুড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারধুনট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কালাম মন্ডল (৪৮) পারধুনট গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরোধ চলে আসছে।
ধুনট থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে মৃত মনছের আলীসহ ১২ ব্যক্তির কাছ থেকে কালাম মন্ডল ও তাঁর মামাতো-ফুফাতো চার ভাই মিলে ১৮ শতক জমি কিনে নেন। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালাম মন্ডলের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই জমিতে ১৬ হাত দৈর্ঘ্যের দুই চালা একটি টিনশেড গুদামঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে পাট, ভুট্টা, ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মজুত রাখা হতো। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে গুদামঘরটি ভেঙে ফেলার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি গুদামঘর অপসারণ না করলে আগুন দিয়ে জমি দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে কালাম মন্ডল উল্লেখ করেন, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নুরুল ইসলাম সরকার (৬০), জামাল সরকার (৫৫), রফি সরকার (৪৮), সামছুল সরকার (৪৫) ও মিঠু (৪০)সহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর গুদামঘরের ভেতরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত কয়েকজন এবং মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। তিনি চিৎকার শুরু করলে মুখোশধারী এক ব্যক্তি তাঁর ঘাড়ে রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন কালাম মন্ডল।
পরে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয় সজিব, সুজন মাহমুদ ও সাজুসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনে গুদামঘরসহ সেখানে মজুত থাকা পাট ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কালাম মন্ডল।
এ ঘটনায় শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালাম মন্ডল ধুনট থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে কালাম মন্ডলের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল ইসলাম সরকার। সংবাদকর্মীদের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নুরুল ইসলাম সরকারের দাবি, বিতর্কিত সম্পত্তিটি তাঁদের এবং কালাম মন্ডলসহ তাঁর স্বজনেরা ক্ষমতার জোরে সেখানে ভাঙা টিনের দুই চালার একটি ঘর রাতের আঁধারে তুলে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুদাম নয় এবং তাঁরা কোনো ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত নন।
তাঁদের মানসম্মান ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে দাবি করে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গণি বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
মন্তব্য করুন