
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতবারের ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ পাসের হার এবার নেমে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশে।
এই পতন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং টানা দ্বিতীয় বছরের পতনের ধারাবাহিকতা। গত চার বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৭ শতাংশে পৌঁছালেও এরপর থেকে ক্রমাগত নিম্নমুখী—২০২৫ সালে ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ, আর এবার আরও কমে ৭২ দশমিক ০২ শতাংশ। একই চিত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও: ২০২৪ সালের ৩৫৩ জন থেকে কমতে কমতে এবার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২৩ জনে, অর্থাৎ গতবারের তুলনায় ৮২ জন কম। কারিগরি শাখা থেকে এবার কেউই জিপিএ-৫ পায়নি।
উপজেলার ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—৩৪টি মাধ্যমিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং ২৭টি দাখিল মাদ্রাসা—থেকে এবার মোট ৩ হাজার ৩৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৪৪১ জন।
সামগ্রিক এই পতনের মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো ফল ধরে রেখেছে। স্কুল ও কারিগরি শাখায় সবচেয়ে ভালো করেছে ধুনট এনইউ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়—১৭৮ জনের মধ্যে ১৭১ জন পাস, উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ জন জিপিএ-৫। এরপর গোসাইবাড়ী এ এ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২ জনের মধ্যে ১৬২ জন পাস করে ৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে এগিয়ে নাংলু এমকেএম ফাজিল মাদ্রাসা, যেখানে ৪২ জনের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে; মহেশ্বর দাখিল মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৭ জন।
তবে এই একই ফলাফলে উল্টো চিত্রও স্পষ্ট। উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেননি—রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৪ জন, হাজী কাজেম-জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ জন এবং কান্তনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৫ জন। একই উপজেলায় একদিকে সর্বোচ্চ ৫৮ জন জিপিএ-৫, অন্যদিকে তিন প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেল—এই বৈপরীত্যই এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত দিক।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানে জোর দেওয়ায় শুরুতে এই ধাক্কা খেতে হচ্ছে, তবে আগামীতে বোর্ডের ফল আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্যে, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাই এবারের পতনের প্রধান কারণ, আর খাতা মূল্যায়নে কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণ অবশ্য আরেকটু বিস্তৃত। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অনাগ্রহী এবং বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে তাদের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে; সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন