
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী এবং দেশটির জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের পরিচিত মুখ সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি আর নেই। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১০০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি মাহাথিরের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিতি হাসমাহকে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করার কথা জানানো হয়েছে। তার শেষকৃত্য সম্পর্কে বিস্তারিত কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। শোকবার্তায় আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশবাসী তাকে একজন মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করবে। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সিতি হাসমাহর স্বামী মাহাথির মোহাম্মদ বর্তমানে ১০১ বছর বয়সী। মালয়েশিয়ার আধুনিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবন গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি দুই মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মাহাথিরের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় ব্যাপক শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। সে সময় ৯২ বছর বয়সে দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সরকারপ্রধান হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তবে রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের পর ২০২০ সালে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়।
মাহাথির ও সিতি হাসমাহর পরিচয় ঘটে সিঙ্গাপুরে মেডিকেল পড়ার সময়, ১৯৪০-এর দশকের শেষদিকে। দীর্ঘ সাত দশকের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান রয়েছে। তাদের সন্তানদের মধ্যে ব্যবসায়ী মোকজানি মাহাথির, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিবিদ মুখরিজ মাহাথির উল্লেখযোগ্য।
চিকিৎসা পেশাতেও সিতি হাসমাহর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহতে তিনি প্রথম নারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার ফার্স্ট লেডি হিসেবে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের বাইরে সিতি হাসমাহ তার শান্ত, সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং রসবোধের জন্যও জনপ্রিয় ছিলেন। স্বামীর তুলনামূলক কঠোর ও স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক ভাবমূর্তির বিপরীতে তার ব্যক্তিত্ব ছিল অনেকটাই সাদামাটা ও আন্তরিক।
২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির তার স্ত্রীর দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করেছিলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সিতি হাসমাহর সমর্থন ও অবদানকে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
মন্তব্য করুন