
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম ব্যাচের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, প্রথম বর্ষ থেকেই একাডেমিকভাবে নিজেদের কীভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব কী—সে বিষয়ে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং ট্রান্সপারেন্সি, ইন্টিগ্রিটি, সিনসিয়ারিটি ও অনেস্টির মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিষয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। দেশকে এগিয়ে নিতে দক্ষ ও সৎ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ মানুষের পাশাপাশি সৎ মানুষ তৈরি করাও জরুরি। জনগণের সম্পদকে আমানত হিসেবে বিবেচনা করে সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে এসে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের কাজ এখন পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জন করা। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে গেলে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা মনে রাখতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ও তোমাদের শিক্ষার সুযোগ দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে তৈরি হয়েছে। তাই বড় হয়ে শুধু নিজের কথা নয়, গোটা দেশ ও মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনে শুধু একটি সংগঠনের নয়, পুরো প্রজন্মের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে আদর্শ ও জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে মারামারি, হানাহানি, হল দখল কিংবা পেশিশক্তির রাজনীতি থাকবে না। বরং আদর্শের সঙ্গে আদর্শের প্রতিযোগিতা হবে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসগুলোতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার না হন, কাউকে যেন জোর করে হলে থাকতে না হয় এবং আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবাসন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং সুন্দর, নিরাপদ ও আদর্শ ক্যাম্পাস গড়তে ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একাডেমিক অগ্রগতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাগ, বই, কুরআন, কলম, চাবির রিং ও বুকমার্কসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও স্মারক সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।
এ ছাড়া জাকসুর নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষার্থীকল্যাণ, মেধা বিকাশ, ক্যারিয়ার গঠন ও নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মন্তব্য করুন