
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অবশেষে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৫- উপভোগের জন্য জায়ান্ট স্ক্রিনে ম্যাচগুলো দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
শনিবার (১৩ জুন) রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসমূহ এলইডি স্ক্রিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও ফাইনাল ম্যাচটি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম তানবীর বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকমাস আগে আমরা সোস্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমের মাধমে জানতে পারলাম বাফুফে আমাদের ক্যাম্পাসে একটা ফ্যান জোন করবে। যতদূর শুনলাম তারা বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে জানিয়েছে তাদের কোনো পরিকল্পনা নাই এখানে ফ্যানজোন করার। রাকসু হয়তো তাদের আশায় ছিল। রাকসু তো একটা স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। তারা কেনো অন্যের আশায় থাকবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ আসলে আমাদের ভার্সিটি অনেক উন্মাদনা দেখা যায় যেখানে লিড দেয় শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক সংগঠনগুলো। রাকসুর বিগত কাজগুলো দেখে বুঝা যাচ্ছে তারা সমালোচনা না করলে আসলে কোনো কাজই করে না। তবুও মন্দের ভালো রাকসু আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বড় দলের ম্যাচের আগে কিছু একটা করতে পারছে তারা। আশাকরি তারা পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে আমাদের বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে মাতিয়ে রাখবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফায়েল আহমেদ বলেন ‘ঘোষণাটা আরও আগে আসলে ভালো হতো। তবে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ইতিবাচক। এখন বাস্তবায়নটা সুন্দর হওয়া জরুরি।’
এ বিষয়ে কথা হয় রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে। তিনি বলেন,’আমাদের শুরু থেকেই পুরো টুর্নামেন্টের খেলা প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল। তবে হঠাৎ করেই যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের স্পনসরশিপ নিয়ে আলোচনা চলছিল, তারা খেলা শুরুর একদিন আগে জানায় যে, বাফুফের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভেন্যু ছাড়া অন্য কোথাও খেলা প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে আমাদের কিছুটা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিদিনই খেলা দেখানোর। আপাতত রাকসুর তহবিল থেকে কয়েকটি ম্যাচ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি এবং বিভিন্ন স্পনসরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রুপ পর্বের প্রায় ১৯টি ম্যাচ আমরা জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ম্যাচও দেখানোর চেষ্টা থাকবে। প্রতিদিনের খেলা প্রদর্শনে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে মোট কত টাকা খরচ হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ উপলক্ষে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রাকসুর পক্ষ থেকে খেলা দেখার কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে গত ১২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুটবল বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ প্রদর্শনের ঘোষণা দেয় রাবি ছাত্রদল। ঘোষণাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ থাকা সত্ত্বেও কেন এ ধরনের উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। এ সময় রাকসুর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনাও দেখা যায়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবি ও আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিনে খেলা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় রাকসু।
মন্তব্য করুন