
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং পরে পুনরায় ডেকে নিয়ে হামলার অভিযোগে স্বামী আল মামুন (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ, তার সৎ মা ও বড় বোন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আল মামুন ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গুয়াডহরী গ্রামের মৃত আনুন সরকারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে নিজ বাড়ি থেকে আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে তাকে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে একই গ্রামের বিথী খাতুনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক আল মামুনের নিবন্ধিত বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের সময় এবং পরবর্তীতে গরু, মহিষ, ছাগলসহ বিভিন্ন উপহার ও নগদ প্রায় ৬ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হলেও তাতেও সন্তুষ্ট হননি অভিযুক্তরা।
পরবর্তীতে বাবার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিথী খাতুনের ওপর মানসিক চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানি চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে তাকে মারধর করে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ জুলাই সকাল প্রায় ১১টার দিকে স্বামীর ডাকে সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে পুনরায় তার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্বামী আল মামুন বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে আঘাত ডান কাঁধে লাগে। পরে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার বাম হাতের কনুই গুরুতরভাবে ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গৃহবধূর চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার সৎ মা উম্মে কুলসুমকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে বড় বোন মিষ্টি খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত বিথী খাতুন ও তার সৎ মাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে গত ২৭ জুলাই অর্থোপেডিক বিভাগে তাদের ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। চিকিৎসা গ্রহণ এবং পারিবারিক পরামর্শ শেষে তিনি ধুনট থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মামলার এক নম্বর আসামি আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সোমবার সকালে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন