
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে চলমান ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের চলমান আন্দোলনকে নবনিযুক্ত উপাচার্য খাটো করে দেখেছেন এবং এটিকে গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এদিকে, নতুন উপাচার্যের অনলাইনে যোগদানের প্রক্রিয়াও আন্দোলনকারীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল না করা পর্যন্ত তারা নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে মেনে নেবেন না।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই এ নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন