
নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া বাজার থেকে বর্ষাইল পর্যন্ত প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংকীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি প্রশস্ত করার দাবিতে এলাকাবাসী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে জোরালো দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি এতটাই সরু যে দুটি বড় যানবাহন একসঙ্গে নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। কোনো ট্রাক, বাস বা পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশ করলে অন্য যানবাহনকে থেমে অপেক্ষা করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত যানজট, সময়ের অপচয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজশাহীগামী বাণিজ্যিক যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কের সংকীর্ণতার কারণে জরুরি সেবার যানবাহনও প্রায়ই ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, যা রোগীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এ পথের দুই পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক বাণিজ্যিক রাইস মিল। মিলগুলোতে প্রতিদিন ধান ও চাল বহনকারী বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে। রাস্তার পাশেই মিল হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্রাকগুলো সড়কের ওপর বা সড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে পণ্য লোড-আনলোড করতে হয়। ফলে সড়কের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ সময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, হাঁপানিয়া বাজার থেকে বর্ষাইল পর্যন্ত মাত্র ৭.৫ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্ত করা হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে, রাইস মিল এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের লোড-আনলোড কার্যক্রমেও সুবিধা হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজশাহীগামী যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাঁপানিয়া বাজার থেকে বর্ষাইল পর্যন্ত ৭.৫ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করুক। তাদের বিশ্বাস, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি আসবে।
মন্তব্য করুন