
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে এবং অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য উপস্থিত হন। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম বদলি হওয়ায় তাঁর স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে মাহফুজ দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগেই জাহাঙ্গীর আলম চেকটিতে স্বাক্ষর করে গেছেন।
পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করলে চেকটি যাচাই করে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরই চেকটির বিপরীতে অর্থ উত্তোলন স্থগিত করা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। যাচাই শেষে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ধরা পড়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন