
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে আটকে রাখার তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিক ও তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শিমলা গ্রামে তথ্য সংগ্রহকালে হামলার শিকার হন সাংবাদিক সালমির ইসলাম। তিনি জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক উপজেলা সংবাদদাতা ও নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য। স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিজরুলে নেওয়া হয়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল প্রায় দেড় বছর আগে ইভা খাতুনের সঙ্গে প্রেম পরবর্তী পালিয়ে বিয়ে করে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তাদের পালিয়ে বিয়ে মেনে নিচ্ছিল না ইভা খাতুনের বাবা উপজেলার শিমলা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। বিয়ে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্প্রতি দুই পরিবার অনুষ্ঠান করে। আনুষ্ঠানিকভাবে ইভা খাতুনকে বাড়িতে নিয়ে যায় তার বাবা।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিমলা গ্রামে পিতার বাড়িতে ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে আটকে রেখে ডিভোর্স করানোর চেষ্টা ও মারধর করার তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কয়েকজন সাংবাদিক। ওই বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্য চাইলে তিনি উত্তেজিত হন। সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। এসময় দুপক্ষের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পায় সাংবাদিক। তার মোটরসাইকেল ও গণমাধ্যমের ডিজিটাল বুম আটকে রাখে অভিযুক্তরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। আহত সালমির ইসলাম চিকিৎসা নিয়েছে। তার শরীরে জখম ও আঘাত রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেস ক্লাবের নেতারা।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান জানান, বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হয়েছিল। সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
মন্তব্য করুন