
সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ গবেষণার পর শব্দহীন এবং দীর্ঘসময় উড়তে সক্ষম হাইব্রিড ড্রোন প্রযুক্তির প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট (Proof of Concept) সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণার্থী মো. রবিউল আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এর সাবেক এই শিক্ষার্থীর গবেষণা সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (ICTD) তাকে সনদ প্রদান করেছে।
সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে ICTD-এর ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা রবিউল আলমকে অভিনন্দন জানান।
প্রচলিত ড্রোন প্রযুক্তির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো ব্যাটারির স্বল্পস্থায়িত্ব এবং প্রপেলারের উচ্চমাত্রার শব্দ। ফলে নীরব নজরদারি, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ গবেষণা এবং সংবেদনশীল বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ড্রোন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যেই রবিউল আলম EHD Ion Propulsion এবং Balloon Assisted Hybrid Lift প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন ধরনের হাইব্রিড ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হলিউড চলচ্চিত্র Oblivion-এ ব্যবহৃত ড্রোন এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর Solid State Ion Plane গবেষণা তাকে এ বিষয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
সহজ ভাষায়, বাতাসকে আয়নিত (Ionize) করে উৎপন্ন থ্রাস্ট এবং বেলুনের সহায়ক উত্তোলন শক্তি ব্যবহার করে ড্রোনকে দীর্ঘসময় আকাশে ভাসিয়ে রাখার প্রযুক্তি নিয়েই এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে ড্রোনের নকশা ও কর্মক্ষমতা আরও কার্যকর করা হয়েছে।
২০২১ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া “Development of Antigravity Device using Artificial Intelligence” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি ICTD-এর গবেষণা অনুদানের ৬ লাখ টাকার অর্থায়নে পরিচালিত হয়। গবেষণার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাভারের Atomic Energy Research Establishment (AERE)-এর ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রনিক্সে। একাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আলম খান। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন AERE-এর বিজ্ঞানীরা।

রবিউল আলম জানান, দীর্ঘ গবেষণাকালে তার এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের University of California, Berkeley (UC Berkeley), University of Hawaii at Manoa এবং Georgia Institute of Technology-এর গবেষকরাও এ প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত NITER Research Fair 2026-এ তার “Ionic-Wind Thrust from Non-Exfoliated Graphite Emitters” শীর্ষক গবেষণাপত্র Best Poster Award অর্জন করে।
ICTD-এর টেকনিক্যাল কমিটি প্রকল্পটিকে “Satisfactorily Completed” হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি Silent Surveillance Drone, Wildlife Monitoring, Micro Air Vehicle এবং পরিবেশভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে মো. রবিউল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণার্থী হিসেবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অর্জন দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন