
কুড়িগ্রামে “ভিশন এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ডিলারশিপ ব্যবসার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি শাহজাল সবুজের দলীয় পদ ও রোকনিয়াত তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক নেতাকর্মীর কাছ থেকে লাভজনক ব্যবসার আশ্বাস দিয়ে “ভিশন এন্টারপ্রাইজ”-এ বিনিয়োগ নেওয়া হয়। প্রথমদিকে কিছু লভ্যাংশ প্রদান করা হলেও পরে বিনিয়োগের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
প্রতিষ্ঠানটির ডিড অনুযায়ী চারজন মালিক হলেন—
১। কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি শাহজাল সবুজ,
২। সাবেক প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,
৩। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং
৪। আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া, পরে বহিষ্কৃত এবং বর্তমানে জামায়াতে যোগদানকারী ও দল ঘোষিত ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আ. সালাম সুজা।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। এতে কর্মরত ছিলেন বর্তমান জেলা বাইতুল মাল সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জামায়াতের রোকন জাহিদুল এবং রুহুল আমিন।
অভিযোগের পর বিষয়টি কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীরের কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে শাহজাল সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে তিন মাসের জন্য রোকনিয়াত মূলতবি করা এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা আমীর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সিদ্ধান্ত হলে তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান দাবি করেন, তার স্ত্রী শহীদ রফিকের বোন এবং পরিবারের সঞ্চিত ৮ লাখ টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দ্রুত অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী সাদেকুর রহমান অভিযোগ করেন, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত অর্থ ফেরত না পেলে তারা আইনি ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির পথে হাঁটবেন বলেও জানান।
এদিকে, ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলরা বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন