
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার নিয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা” শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’।
গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন, সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইন বিভাগ থেকে পৃথক রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিকল্প নেই এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক শর্ত।
বক্তারা ‘Separation of Power’ বা ক্ষমতার বিভাজন নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিচারকরা যেন কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনায় ১৯৯৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মাজদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায় এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে দেওয়া নির্দেশনাগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া গণভোট, সংবিধান সংস্কার, বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও মতামত দেন বক্তারা। তারা বলেন, বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো নাগরিককে বিনা বিচারে আটক রাখা উচিত নয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের আস্থার জায়গায় নিতে হলে সংস্কার ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন