সর্বশেষ
||সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির বড় সাফল্য, লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ||এনসিটি পরিচালনা: বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এবার লড়াইতে দেশীয় ‘জোট’||কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
রাতের আঁধারে চুরির ঘটনা, ল্যাপটপ ও টিভিসহ মালামাল লুট
||শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পর্দায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনের প্রস্তাব কুবি ছাত্রদলের||সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ||বগুড়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: ৯ বছর পর রহস্যের উন্মোচন||আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলায় সিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশ||বরগুনার আমতলীতে সামারি ট্রায়ালে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, দুইজনের কারাদণ্ড||দেবিদ্বার বল্লভপুর কৃতি সন্তান আহসান পারভেজ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান||প্রাথমিক ভর্তির কাগজপত্র জমা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ববি ছাত্রদলের হেল্প ডেস্ক

১৯৫৩: এক গোপন অভ্যুত্থানের ছায়ায় বদলে যাওয়া ইরানের ভাগ্য

১৯৫৩: এক গোপন অভ্যুত্থানের ছায়ায় বদলে যাওয়া ইরানের ভাগ্য
১৯৫৩: এক গোপন অভ্যুত্থানের ছায়ায় বদলে যাওয়া ইরানের ভাগ্য

Share this news with

ইতিহাসের কিছু ঘটনা থাকে, যেগুলো কেবল একটি সরকারের পতন ঘটায় না—একটি জাতির মানস গঠনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। ১৯৫৩ সালের ইরানের গোপন অভ্যুত্থান সেই ধরনের এক সন্ধিক্ষণ। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ  মোসাদ্দেককে অপসারণ করে রাজতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার যে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা কেবল ক্ষমতার রদবদল ছিল না; এটি ছিল সার্বভৌমত্ব, সম্পদ-নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ইরানের তেলসম্পদ বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল। মোসাদ্দেক ক্ষমতায় এসে তেলশিল্প জাতীয়করণ করেন। এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দাবিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। কিন্তু শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা শক্তিগুলো এটিকে কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেনি; বরং এটি ছিল প্রভাব-অঞ্চল রক্ষার প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি  এবং যুক্তরাজ্যের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস  গোপনে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি, প্রচারযুদ্ধ এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কৌশল নেয়। ১৯ আগস্ট ১৯৫৩–তে সেই পরিকল্পনা সফল হয় এবং মোঃ রেজা শাহ পাহলভী   পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসেন।

গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়,অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ইরানে আপাতত স্থিতিশীলতা ফিরে এলেও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকুচিত হয়। নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার হয়, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নাগরিক আস্থার সংকট গভীরতর হয়।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে বাহ্যিক শক্তির সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত স্থিতি কি টেকসই হয়?ইরানের ক্ষেত্রে উত্তরটি ছিল না। কারণ রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি ছিল দুর্বল। এই সঞ্চিত ক্ষোভ ও অবিশ্বাস ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লবের  পথ প্রস্তুত করে।

ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি মূলত ১৯৫৩ সালের ক্যু বা অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট গভীর ঐতিহাসিক ক্ষতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণে ‘ঐতিহাসিক স্মৃতির রাজনীতি’ হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনাটি ইরানি রাষ্ট্রচিন্তায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি চিরস্থায়ী সংবেদনশীলতা তৈরি করেছে, যার ফলে দেশটি তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট থেকেই ইরানের মাঝে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি চরম কূটনৈতিক অবিশ্বাস এবং যেকোনো মূল্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বনির্ভরতা অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। সংক্ষেপে, ১৯৫৩ সালের স্মৃতি ইরানকে একটি ‘প্রতিরোধমূলক মনস্তত্ত্বের’ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, যেখানে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় হস্তক্ষেপকে ন্যায্য মনে করে। কিন্তু উদারবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাতকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

ইরানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে প্রভাব প্রতিষ্ঠা করলে দীর্ঘমেয়াদে তা জাতীয়তাবাদকে তীব্র করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অবিশ্বাসের চক্রে আবদ্ধ করে।

১৯৫৩ সালের ইরানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রধান শিক্ষণীয় দিক হলো—জাতীয় সংহতি ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নিবিড় সংযোগ। প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করতে কেবল আবেগী জাতীয়তাবাদ যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, যা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের পথ বন্ধ করে দেয়। ইরানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকলে তা বহিরাগত শক্তির জন্য ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সার্বভৌম সুরক্ষা—উভয়ই রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি মুক্ত থাকে।

১৯৫৩ সালের ইরানের গোপন অভ্যুত্থান ছিল একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপথে মোড় ঘোরানো ঘটনা। এটি আমাদের শেখায়—রাষ্ট্রের বৈধতা কেবল শক্তির ওপর দাঁড়ায় না; দাঁড়ায় জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর।

আজকের ইরানকে বুঝতে হলে ১৯৫৩–কে বুঝতে হবে। কারণ ইতিহাস কখনো নিঃশেষ হয় না; তা রাষ্ট্রের নীতিতে, নাগরিকের মানসে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষ্যে পুনরায় উপস্থিত হয়।

এই ক্ষেত্রে আমার মূল্যায়ন হলো—যে রাষ্ট্র তার ঐতিহাসিক ক্ষতকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে রূপান্তর করতে পারে, কেবল সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে সক্ষম।

Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির বড় সাফল্য, লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

এনসিটি পরিচালনা: বিদেশি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এবার লড়াইতে দেশীয় ‘জোট’

কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
রাতের আঁধারে চুরির ঘটনা, ল্যাপটপ ও টিভিসহ মালামাল লুট

শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পর্দায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনের প্রস্তাব কুবি ছাত্রদলের

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

বগুড়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: ৯ বছর পর রহস্যের উন্মোচন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলায় সিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশ

বরগুনার আমতলীতে সামারি ট্রায়ালে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, দুইজনের কারাদণ্ড

দেবিদ্বার বল্লভপুর কৃতি সন্তান আহসান পারভেজ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান

প্রাথমিক ভর্তির কাগজপত্র জমা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ববি ছাত্রদলের হেল্প ডেস্ক

১০

জঙ্গল সলিমপুরে এসপি মাসুদ : দিলেন শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা, স্বপ্ন ও নিরাপত্তার বার্তা

১১

গর্ভের সন্তান নষ্টে রাজি না হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কুপিয়ে জখম

১২

বগুড়ায় দশ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় শহর শ্রমিক দল নেতা জেমস কারাগারে

১৩

ধরলায় নিখোঁজ দুই ভাই, বড় ভাই সাব্বিরের লাশ উদ্ধার, অপর লাশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত ​

১৪

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

১৫

আটোয়ারী মির্জাপুরে ৬ জুয়ারী আটক

১৬

দেবিদ্বারের গুনাইঘরে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন দুই শতাধিক রোগী

১৭

বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২,৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৮

মাদক বিক্রির ভিডিও করায় সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলা, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১৯

জাতীয় বাজেটে ‘শ্রমিক রেশনিং’ ব্যবস্থা চালুর দাবি টিইউসির

২০