
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে এসে মারধরের ঘটনায় নিহত ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী ‘কামরুল ইসলামের’ স্মরণে স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল প্রাঙ্গণে এই স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি থেকে প্রয়াত কামরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় মওলানা ভাসানী হলের চারপাশের বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে কদবেল, সফেদা, আমড়া, আতা, লটকন, জলপাই, দেশি বেল, হরবড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি গাছ থেকে মানুষ কিংবা যেকোনো প্রাণী উপকৃত হলে তার সওয়াব রোপণকারীর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় আমাদের একমাত্র শহীদ কামরুল ইসলাম ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক কল্যাণে আমাদের এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
এ ছাড়াও রোপণ করা চারাগুলো বড় হয়ে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১৬ আগস্ট পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে অবস্থান নেন কামরুল ইসলাম। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় তিনি নিহত হন। সংগঠনটি কামরুল ইসলামকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তাদের একমাত্র ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করে এবং প্রতি বছর তাঁর স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে।
মন্তব্য করুন