
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে খোলামেলা ও সহানুভূতিশীল আলোচনা উৎসাহিত করতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি (বিপিএ)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এবারের বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য—“আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই-কথোপকথন শুরু করি।” আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মানুষের মধ্যে খোলামেলা ও সহানুভূতিশীল কথোপকথনের পরিবেশ তৈরির ওপর এবারের দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও পরিচালক জিয়ানুর কবির, প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট ডক্টর সারা ভট্টাচার্য, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এবং শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জোহা।
আয়োজকরা জানান, কেউ আত্মহত্যার চিন্তা বা ইঙ্গিত প্রকাশ করলে তাকে দুর্বল বা নাটক করছে—এমন ধারণা না করে তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। সরাসরি আত্মহত্যার চিন্তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা ঝুঁকি বাড়ায় না; বরং নিরাপদ কথোপকথনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আত্মহত্যার সতর্ক সংকেত
আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণে বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। যেমন—‘আমি আর পারছি না’, ‘সব শেষ’ বা মৃত্যুর ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা; পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া; প্রিয় কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া; নিজের যত্ন কমে যাওয়া; হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বা মাদক গ্রহণ শুরু করা।
এ ছাড়া সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, বিবাহবিচ্ছেদ, চাকরি হারানো, আর্থিক সংকট, গুরুতর অসুস্থতা বা অন্য কোনো বড় সংকটের পর তীব্র হতাশাও ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। প্রিয় জিনিস অন্যদের দিয়ে দেওয়া, সবার কাছে ক্ষমা চাওয়া কিংবা অসমাপ্ত বিষয় দ্রুত শেষ করার মতো বিদায়ী আচরণও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অতীতে আত্মহত্যার চেষ্টা থাকলেও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
আয়োজকরা বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, কমিউনিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করা ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া, সহানুভূতির সঙ্গে তার কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ আয়োজন, সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়তামূলক ও বিচারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতি, গবেষণা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ সেবা যুক্ত করার মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন