
অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে Autonomic Neuropathy (অটোনমিক নিউরোপ্যাথি) রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এরপর বিএনপি সরকারের সময়ও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে অপসারণের দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও আন্দোলন হলেও সে সময় তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন। পরবর্তী সময়ে তার পদত্যাগ নিয়ে একাধিকবার গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তার দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন