
পৃথিবীর সবচাইতে ভারী বস্তুটি বহন করে চলেছেন হতভাগ্য এক পিতা! হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তিন বছর বয়সী শিশু সাদমান। মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করেছে।
হইতোবা সাদমানের জীবনের গল্পটি ভিন্নও হতে পারতো। হতে পারতো তিন বছর বয়সী সাদমান নতুন জামা পরে বাবার কোলে চড়ে ঘুরছে ঢাকা শহর। আহ!
সাদমানের জন্য হতে পারতো এ এক আনন্দময় মুহূর্ত। বাবার কোলে দারুণ সুখের এক স্মৃতি। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বাবার কোলে চাদরে মুড়ানো সাদমানের লাশ।
অভিযোগ উঠেছে, মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি হাম ডেডিকেটেড হাসপাতালের অক্সিজেন সর্বস্ব বেডে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় শিশু সাদমানের। এমনকি ছোট্ট সাদমানের লাশ বাড়িতে নেয়ার জন্য জোটেনি হাসপাতালের একটা এ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত। অথচ তখনও নাকি ডিএনসিসি হাম ডেডিকেটেড হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ৩ টি এ্যাম্বুলেন্স ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মিলায়, নিরুপায় হয়ে সাদমানকে বিছানার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দুই হাতে পাজাকোলা করে লাশ নিয়ে সিএনজি’র সন্ধানে ছুটে চলেছেন সাদমানের পিতা। কী অসহায় দৃশ্য!
এদিকে, মৃত শিশু সাদমানকে কোলে করে নিয়ে যাওয়ার মতো ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়লেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর। দেখা যায়, মৃত শিশু সাদমানকে কোলে করে নিয়ে হাঁটছেন শিশুটির পিতা এবং পিছনে কেঁদে কেঁদে দৌড়াচ্ছেন শিশুটির মা।

রোগীদের অভিযোগ, ডিএনসিসি হাসপাতালে নেই ওটি, এমনকি নেই কোন প্যাথলজি সেন্টারও। আরও জানা যায়, নেই কোনো উচ্চতর ডিগ্রীধারী চিকিৎসক, নেই নার্স। এতোকিছুর অভাব থাকা সত্ত্বেও ডিএনসিসি হাসপাতালকে বিএমডিসির অন্তর্ভুক্ত করে হাসপাতাল ঘোষনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন