
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য নেই কোন সুখবর,দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাখা হয়নি রংপুর অঞ্চলের জন্য কোন বিশেষ বরাদ্দ,কৃষি শিল্প,যোগাযোগ,দারিদ্র বিমোচন সর্ব ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে এই অঞ্চল। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। উন্নয়নের মুল শ্রোত থেকে ছিটকে পড়বে অবহেলিত রংপুর অঞ্চল।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা,লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প,রংপুর সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন,রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্পগুলো বাজেটে স্থান না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ,ব্যবসায়ী নেতারা।
রংপুর অঞ্চলের ৮টি জেলার ২কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তিস্তা নদীকে ঘিরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। প্রতি বছর ভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কোটি মানুষের আশা ছিল এবারের বাজেটে এ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা বরাদ্দের ঘোষণা আসবে। কিন্তু বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘোষণা না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
একইভাবে বহুদিন ধরে আলোচিত লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর জন্য কোন প্রকল্প বাজেটে গুরুত্ব পায়নি।ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিমান যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজেটে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ফলে বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত গতি আসবে না বলে তারা মনে করছেন।
কৃষিপ্রধান রংপুর অঞ্চলে আলু, ভুট্টা, ধান ও সব্জী সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন হলেও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী
দেশের মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ, ভুট্টা উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি এবং চাল উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে রংপুর অঞ্চল থেকে।জাতীয় কৃষি উৎপাদনের প্রায় এক- চতুর্থাংশের জোগান দেওয়া এই অঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।অথচ এবারের জাতীয় বাজেটে দক্ষিনাঞ্চলের জন্য পচনশীল কৃষি পন্য সংরক্ষনের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বরাদ্দ থাকলেও রংপুর অঞ্চলের জন্য নেই তেমন কোন বরাদ্দ।
স্থানীয়দের আশা ছিল কৃষিভিত্তিক শিল্প বন্ধ চিনিকল চালু,হিমাগার সম্প্রসারণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু বাজেটে এমন কোনো বড় উদ্যোগের ঘোষণা না থাকায় কৃষি অর্থনীতির উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক নেতারা বলছেন, দেশের অন্যতম কৃষি উৎপাদনশীল অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও রংপুর এখনো উন্নয়ন বরাদ্দে পিছিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরাঞ্চল বাজেট বৈষম্যের শিকার—এমন অভিযোগ নতুন নয়। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল এবার অন্তত ঘুচবে এই অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য,এবারের বাজেটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র রংপুর জেলা সভাপতি ফখরুল আলম বেঞ্জু বলেন,বৈষম্যহীন রাস্ট্র বিনির্মানে আমরা নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম,রংপুর অঞ্চলের মানুষ এবারের বাজেটে তাদের প্রত্যাশা পুরনে সমতা ভিত্তিক বরাদ্দ পাবে,আমরা হতাশ হয়েছি রংপুর অঞ্চলের জন্য কোন বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং উন্নয়ন শ্রোত থেকে আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে রাস্তায় নামব।
উন্নয়ন গবেষক উমর ফারুখ জানান,প্রতিবছর রংপুর অঞ্চলের কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপন্য সংরক্ষনের অভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়,কৃষক তার কৃষি পন্যের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয়।পচনশীল কৃষিপন্য সংরক্ষনে দক্ষিনাঞ্চলের মত রংপুর অঞ্চলে সংরক্ষণাগার নির্মানে সরকার বাজেটে বরাদ্দ রাখবে,কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি বাজেটে কোন বরাদ্দ না রাখায়।
এবারের বাজেটে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য রাখা হয়নি কোন বরাদ্দ,বুড়মারি স্থল বন্দর থেকে লালমনিরহাট হয়ে রংপুর প্রযন্ত চারলেন সড়ক নির্মান,কাউনিয়া থেকে সান্তাহার ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মান,এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহন,জিআই স্বীকৃত হাড়িভাঙ্গা আম সংরক্ষণে হিমাগার নির্মান,লালমনিরহাটে ভুট্টা প্রসেসিং শিল্প কারখানা নির্মানে গুরত্ব পায়নি বাজেটে।রংপুর অঞ্চলের প্রতি উদাসীনতা এই অঞ্চলের মানুষকে বিক্ষুদ্ধ করেছে।
মন্তব্য করুন