
আগামী ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কোনো কমতি রাখছে না প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে আজ এক বিশেষ ও চোখ ধাঁধানো নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-৯ ইউনিটের যৌথ অ্যাকশন
আন্তর্জাতিক মানের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ মহড়ায় অংশ নেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াত (SWAT), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং কে-৯ (K-9) স্কোয়াডের চৌকস সদস্যরা। মহড়া চলাকালে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নস্যাৎ করা, জিম্মি উদ্ধার, ভিআইপিদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন প্রদর্শন করা হয়।
যা যা ছিল এই বিশেষ মহড়ায়:
সোয়াত (SWAT): সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কবল থেকে জিম্মিদের উদ্ধার এবং ঝটিকা অভিযানের কৌশল প্রদর্শন।
বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট: স্টেডিয়ামের কোথাও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকের উপস্থিতি থাকলে তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত এবং নিষ্ক্রিয়করণ।
কে-৯ (K-9) ডগ স্কোয়াড: প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যে স্টেডিয়াম ও এর চারপাশের গ্যালারি, প্রবেশপথ ও ভিআইপি জোনে বিস্ফোরক অনুসন্ধান এবং চিরুনি তল্লাশি।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড় ও দর্শকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়াই পুলিশের মূল লক্ষ্য। মূলত সম্ভাব্য যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করা এবং পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের পারস্পরিক সমন্বয় আরও কার্যকর ও গতিশীল করতেই এই বাস্তবসম্মত মহড়ার আয়োজন করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা যেমন শতভাগ ঢেলে দেবেন, ঠিক তেমনি মাঠের বাইরেও দর্শকদের নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করা এবং বিদেশি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিএমপি পুরোপুরি প্রস্তুত। ১৭ জুনের ম্যাচকে ঘিরে পুরো স্টেডিয়াম এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন