
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদকবিরোধী পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১২০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ধুনট থানা পুলিশ। গত বুধবার (১০ জুন) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটগুলোর মোট ওজন প্রায় ৪৮ গ্রাম বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাহাটা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জোড়গাছা এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট নিয়ে ধুনট বাজারের দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাতবেকী বটতলা এলাকায় অবস্থান নেন।
রাত পৌনে ৯টার দিকে একটি অটোরিকশায় তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামানোর সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। তল্লাশিতে মিজানুর রহমান (৩৫)-এর কাছ থেকে ৫০ পিস, সোহাগ সরকার (৩২)-এর কাছ থেকে ৪০ পিস এবং সোহাগ মিয়া (২৮)-এর কাছ থেকে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ১১০ পিস ট্যাবলেটের মোট ওজন ছিল প্রায় ৪৪ গ্রাম।
প্রথম দফায় আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে একই রাতে উপজেলার ছোট চাপড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ইমরুল কায়েস (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫)-কে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৮ পিস ও ২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন — মিজানুর রহমান, সোহাগ সরকার, সোহাগ মিয়া, ইমরুল কায়েস ও সাইফুল ইসলাম। তাদের সবার বাড়ি ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, তারা অবৈধভাবে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে নিজেরা সেবনের পাশাপাশি মাদকসেবীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রেখেছিল। উদ্ধারকৃত মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত ১২০ পিস ট্যাবলেটের মধ্যে ৮ পিস নমুনা হিসেবে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সিলগালা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করে থানার মালখানায় জমা রাখা হয়েছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালানোর সময় পড়ে গিয়ে দুই আসামি সামান্য আহত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে পাঁচজনকেই বগুড়া আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত ও জোরদার অভিযান পরিচালিত হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয়রা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের এই তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় ওষুধের অপব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে।
মন্তব্য করুন