
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক পোশাককর্মীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে শ্রী শ্যামল চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুটি পৃথক ধারায় মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
২২শে জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত শ্যামল চন্দ্র দাস ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালোমেঘ পরিষদপাড়া গ্রামের শ্রী কলেন চন্দ্রের ছেলে। তিনি মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মী ওই তরুণীকে মোবাইল ফোনে ফুসলিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিয়ে আসেন শ্যামল।
সেখান থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটী গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে নিয়ে ওই রাতেই তরুণীকে দুই দফা ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শ্যামল।
পরবর্তী সময়ে ২৬ এপ্রিল ওই তরুণী গোপনে তাঁর পরিবারকে ফোন করে নিজেকে আটকে রাখার বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে স্বজনেরা চিলাহাটী থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় শ্যামলকে আটক করেন।
পরে ঘটনার বিস্তারিত জেনে ২৭ এপ্রিল পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির দুই ধারার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে আদায়কৃত অর্থদণ্ড ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ ট্রাইব্যুনাল মারফত ভিকটিমকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ বা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁর এই সাজার মেয়াদ কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন