
দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কক্সবাজারে ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউবিইএসটি)’ নামে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো তার আধা-সরকারি পত্রটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, কক্সবাজারে বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীকে আধা-সরকারি পত্র দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে থাকা বিপুল সামুদ্রিক সম্পদকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি। তবে এ খাতে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ইনস্টিটিউটটির অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গবেষণা সুবিধা, বৈজ্ঞানিক জনবল ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শূন্য থেকে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যমান গবেষণা অবকাঠামোকে কাজে লাগানো গেলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও হসপিটালিটি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ চালুর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারে এ ধরনের বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি সামুদ্রিক গবেষণার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান গবেষণা সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন