
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন “কনফেশন” বা “ক্রাশ” পেজের আড়ালে অনুমতি ছাড়া তরুণ-তরুণীদের ছবি সংগ্রহ করে প্রকাশ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। অনেকেই এটিকে নিছক বিনোদন বা ভালো লাগার প্রকাশ হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি প্রকাশ করে ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেমের প্রস্তাব বা কনফেশন লিখে হাজারো মানুষের সামনে উপস্থাপন করা সামাজিকভাবে দায়িত্বহীন আচরণ এবং পরিস্থিতিভেদে আইনি জটিলতার কারণও হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও অনুমতি ছাড়া তার ছবি এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করা, যাতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত হন, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়, সেক্ষেত্রে ভুক্তভোগী প্রচলিত আইনের আওতায় প্রতিকার চাইতে পারেন। বর্তমানে সাইবার অপরাধ, অনলাইন হয়রানি, মানহানি বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, “ছবিটি তো পাবলিক ছিল” বা “শুধু ভালো লাগা প্রকাশ করেছি”—তাই কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এই ধারণা ভুল। কোনো ব্যক্তির ছবি সর্বসাধারণের জন্য দৃশ্যমান হলেও সেটি ইচ্ছেমতো অন্য প্রসঙ্গে ব্যবহার বা প্রকাশ করার অধিকার কাউকে দেয় না। যদি সেই ব্যবহারে ব্যক্তির ক্ষতি, হয়রানি বা মানহানি ঘটে, তাহলে বিষয়টি আইনি গুরুত্ব পেতে পারে।
এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে ভুক্তভোগীর উচিত পোস্টের স্ক্রিনশট, লিংক ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি রিপোর্ট করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পেজ কর্তৃপক্ষকে পোস্ট অপসারণের অনুরোধ জানানো এবং প্রয়োজনে থানা বা পুলিশের সাইবার ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করা। ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমেও আইনি প্রতিকার চাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক মিনিটের জনপ্রিয়তা বা বিনোদনের জন্য করা একটি পোস্ট আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত, আইনি নোটিশ, আদালতে হাজিরা কিংবা অন্যান্য আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে নির্দোষ একজন মানুষকে মানসিক কষ্ট, সামাজিক অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলতে পারে।
তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে কারও স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া তার ছবি তুলে, সংগ্রহ করে বা অন্য কোনো উৎস থেকে নিয়ে “কনফেশন”, “ক্রাশ” বা অন্য যেকোনো ধরনের পোস্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, এটি একটি সভ্য সমাজ ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত। মনে রাখবেন, একটি পোস্ট আপনার কাছে বিনোদন হতে পারে, কিন্তু সেটিই অন্য একজন মানুষের জন্য আজীবনের মানসিক ক্ষত এবং আপনার নিজের জন্য গুরুতর আইনি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মন্তব্য করুন