
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে তিনজনের ওপর হামলা, মারধর ও ব্যবসার নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর রোববার (২ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া বাবু সরকার (৪৫) উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের সুলতানহাটা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরকারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাবু সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ধুনট থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আলম বাদশার ছেলে রিয়ন মিয়া এবং তার দুই নাতি আলামিন হোসেন ও রানা চিকাশী মফিজ মোড় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে একটি কাপড়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের পথরোধ করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও ধারালো রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা প্রথমে ভুক্তভোগীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে অতর্কিত হামলা চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় রানার ডান চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। আলামিন হোসেনের ডান চোখে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তাকে লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রিয়ন মিয়াকেও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আলামিন হোসেনের প্যান্টের পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত তিনজনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অপর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বাবু সরকারসহ এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে বাবু সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার পলাতক এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে ধুনট থানা সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন