উমংনু মারমা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ছাড়পত্র-লাইসেন্স ছাড়াই বান্দরবানের অধিকাংশ করাতকল

Share this news with

বান্দরবানে সাত উপজেলায় থাকা ৮১টি করাতকলের অধিকাংশই পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বন বিভাগের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮১টি করাতকলের মধ্যে মাত্র ৪৫টির পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টির ছাড়পত্র নবায়ন করা হয়েছে, বাকি ১০টির নবায়ন হয়নি।

অন্যদিকে, বন বিভাগের হিসাবে ৮১টি করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে ৪৫টির। বাকি ৩৬টি করাতকলকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী সরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সংবেদনশীল স্থাপনা থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে করাতকল স্থাপন করতে হয়। বিধিমালায় এসব স্থাপনা থেকে অন্তত ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখার বিধান রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বান্দরবানের অনেক করাতকলই আবাসিক এলাকার ভেতরে, স্কুল-মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে।

এতে একদিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে শব্দ ও পরিবেশদূষণে জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, করাতকলের বিকট শব্দ, কাঠবাহী ভারী যানবাহনের চলাচল এবং কাঠের বর্জ্যের কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব করাতকল পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

৮১টির মধ্যে ৩৬টির লাইসেন্স নেই

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান বিভাগীয় বন বিভাগের আওতায় ১৩টি করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে সদর রেঞ্জে আটটি, সেকদু রেঞ্জে তিনটি এবং থানচি রেঞ্জে দুটি। এ ছাড়া পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের অধীনে রয়েছে আরও আটটি করাতকল।

অন্যদিকে, লামা বিভাগীয় বন বিভাগের আওতায় রয়েছে ৬০টি করাতকল। এর মধ্যে লামা উপজেলায় ২১টি, আলীকদমে নয়টি এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩০টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান পৌরসভার উজানীপাড়া এলাকায় একটি এবং বালাঘাটা এলাকায় অন্তত সাতটি করাতকল দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এসব করাতকলের কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা, মহিলা কলেজ ও সরকারি স্থাপনার আশপাশে অবস্থিত।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব করাতকলের সঙ্গে সাবেক কমিশনার নাসির উদ্দীনের ভাগ্নে আতিকুর রহমান সানি, আবুল বসর, মোরশেদ কোম্পানি, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামাল, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আয়ুব চৌধুরী, মো. আনোয়ার ও মো. রফিকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে কয়েকটি করাতকল বর্তমানে অন্য ব্যক্তিরা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।

উজানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মংহ্লাচিং মার্মা বলেন, “উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষেই একটি করাতকল চলছে। দিন-রাত শব্দদূষণ হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতের পথ দিয়েই ভারী ট্রাক চলাচল করে। এতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

আরেক বাসিন্দা ক্যসাইনুং মার্মা বলেন, “আমাদের ভবনের পাশেই উজানীপাড়ার মধ্যে করাতকলটি চলছে। প্রতিদিন পাড়ার রাস্তা দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল করে। শব্দ ও পরিবেশদূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও করাতকলের শব্দের কারণে স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

‘বন বিভাগের লাইসেন্স আছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই’
করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. রফিক বলেন, “আমরা বন বিভাগ থেকে লাইসেন্স নিয়েছি এবং এ বছরও নবায়ন করেছি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।”

অধিকাংশ করাতকল মালিক তাদের প্রতিষ্ঠানের বৈধতা কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কয়েকটি করাতকলের কর্মচারীরাও জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা জানেন না।

বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য করাতকল মালিকদের বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এরপরও অনেকে তা মানছেন না।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব বলেন, “জেলায় ৪৫টি করাতকলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি নবায়ন করা হয়েছে। বাকি ১০টি নবায়ন করা হয়নি।”

অবৈধ করাতকলের বিষয়ে তিনি বলেন, “জেলায় যতগুলো অবৈধ করাতকল রয়েছে, সবগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে করাতকল চালাতে হবে। তা না হলে অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

লামা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুস্তাফাফিজুর রহমান বলেন, “বারবার বলার পরও আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির অনেক করাতকলের মালিক লাইসেন্স নেননি। খুব শিগগিরই যারা লাইসেন্স নবায়ন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।”

  • প্রধান কার্যালয়: ২৪১/১-বি (হক ট্রেডার্স), তেজকুনি পাড়া (বিজয় সরণি - তেজগাঁও লিঙ্ক রোড), তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
    নিউজ রুম: ০১৭৪৬-৭৪৫১২৫
    প্রতিষ্ঠাকাল: ০২ এপ্রিল ২০২৪ ইংরেজি।
    ই-মেইল: pressdeskbd@gmail.com

    View all posts
Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের প্রস্তুতি সভা

১

তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর দাবি, শ্রমিক আন্দোলনে বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জাতীয় শ্রমিক শক্তির

২

নন্দীগ্রামে আধুনিক ডাকবাংলো ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

৩

বগুড়া আদর্শ কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

৪

বেরোবিতে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

৫

কুষ্টিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ, ভাঙা হলো স্থাপনা

৬

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

৭

কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান

৮

সান্তাহারে হোটেলের খাবার খেয়ে ৫ জন হাসপাতালে

৯

মিরপুর-১১-তে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে ছত্রভঙ্গ

১০

এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার মধ্যে বিস্ফোরণ, ফিলিপনগর বিদ্যালয়ে আতঙ্ক

১১

শেরপুরে অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নাতি-নানি গ্রেপ্তার

১২

সান্তাহারে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করায় পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

১৩

ককটেল হামলা মামলায় ধুনটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

১৪

বগুড়ায় চারমাথা থেকে কামারগাড়ী রেলঘুমটি পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে অংশীজনদের মতবিনিময় সভা

১৫

ঢাকা বাঁচাও থেকে সোহানী শিফা ও নুহাস বহিষ্কার, নতুন আহ্বায়ক তানভীর আজাদ

১৬

গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত মূল হোতা বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা মুরাদ এখন কুড়িগ্রামে, পলাতক সহযোগী

১৭

বগুড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

১৮

মিরপুর-১০-এ শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপে ছত্রভঙ্গ শ্রমিকরা

১৯

ঢাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশাল মিছিল

২০