
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনামূল্যে উফশী জাতের আমন ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে এ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে আমন ধান বীজ এবং ৪০০ কৃষকের মাঝে গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ তুলে দেওয়া হয়।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুমেন চাকমা, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহ জালাল কাজল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানাসহ কৃষি অফিসের পদস্থ কর্মকর্তা ও উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ কৃষকের প্রত্যেককে বিনামূল্যে ৫ কেজি করে আমন ধান বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কৃষকের মাঝে ৭টি আইটেমের উন্নত জাতের গ্রীষ্মকালীন সবজি বীজ এবং প্রত্যেককে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়। পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। মাটিরাঙ্গার কৃষি খাতকে দ্রুত পুনর্গঠন করতে সরকারের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার সবসময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। মাটিরাঙ্গায় সাম্প্রতিক বন্যায় আমাদের প্রান্তিক কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং কৃষি খাতকে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করাতে এই সহায়তা দেওয়া হলো।
তিনি আরও বলেন, বিতরণকৃত বীজ ও সার সঠিকভাবে ব্যবহার করে কৃষকরা যদি সময়মতো আবাদ শুরু করতে পারেন, তবেই আমাদের এই উদ্যোগ সার্থক হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন সবসময় কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন