
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মো. বাচ্চু (৫০) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে কৌশলে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তার হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরলে স্বজনরা তার অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে বিষয়টি জানতে চান। তখন সে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে জানানো হলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে গতকাল রাতে তিনি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পরিবার রাজি না হলে বাচ্চু ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, স্কুল ছুটির পর প্রধান শিক্ষক তাকে তৃতীয় তলায় ডেকে নিয়ে যান। সে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। পরে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং কাউকে কিছু জানালে হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তার দাবি, বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস চলাকালে তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন