
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে পৌঁছালে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকরসহ নানা রাজনৈতিক ও জনদাবি নিয়ে বক্তব্য দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট মোকাবিলা করছেন। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতেই তাদের রাজপথের কর্মসূচি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দাবি পূরণ হয়নি। তিনি দ্রুত কুমিল্লা বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কোনো জেলার পক্ষ থেকেও বিভাগ নিয়ে দাবি থাকলে তা বিবেচনার কথা বলেন তিনি।
সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। কুমিল্লায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মতো অভিযোগ এখনও রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার বক্তব্যে, মাদকের বিস্তারে দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের বিজয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের সমর্থন নিয়েই নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, লংমার্চকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তার দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ঢাকায় আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে শেষ পর্যন্ত জনগণই তার জবাব দেবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জনগণ সরকারকে চাপ প্রয়োগ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ফেনীর মহিপাল ও মীরসরাইয়ে আরও পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচিতে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন