
বগুড়ার শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই আবারও চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিকের ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আগের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে – কার ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে চলছে এই অর্থ আদায়?
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যবহারিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে নম্বর কমিয়ে দেওয়া কিংবা ফেল করে দেওয়ার হুমকি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা অনেকটা অসহায় অবস্থায় থাকায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম প্রধানসহ অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবহারিক পরীক্ষা ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। গত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ২৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। সেই অভিযোগের পর এবার আবারও ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে – তাহলে আগের অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা কোথায়?
সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে বারবার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি শুধু অর্থ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির প্রশ্নও।
শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগেই থেমে নেই কলেজের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে প্রশ্ন। এর আগে দরপত্র ছাড়াই কলেজের পশ্চিম পাশের খেলার মাঠের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ নিয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, কাজের প্রকৃত ব্যয় কত এবং অর্থের হিসাব কোথায় – এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
একদিকে পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নির্মাণকাজের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন – সব মিলিয়ে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, বারবার অভিযোগ ওঠার পরও যদি একই ধরনের ঘটনা চলতে থাকে, তাহলে এর পেছনে কার প্রভাব বা প্রশ্রয় রয়েছে? অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পরও কার্যকর তদন্ত না হওয়ার কারণ কী – এ প্রশ্নের উত্তরও চান তারা।
অভিভাবকরা জানান, সরকারি কলেজে পড়তে এসে কোনো শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত ফির বাইরে টাকা দিতে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। আর যদি এভাবে পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা চলতেই থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জার একটি বিষয়।
তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গোপনে গ্রহণ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
—এফএল/প্রেস ডেস্ক বিডি
মন্তব্য করুন