
বান্দরবানে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দাবি জানাচ্ছেন বান্দরবানের নাগরিক সমাজ, ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন উপজাতীয় ব্যক্তিকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়ন ফোরাম, বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্য সা মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সমস্যা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা একজন প্রতিনিধির নেতৃত্বেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, শান্তি চুক্তির চেতনা অনুযায়ী অবিলম্বে মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করে একজন উপজাতীয় ব্যক্তিকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়টিকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি কেন পদত্যাগ করলেন, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
তাদের মতে, পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কার্বারী মংক্যচিং মারমা, ছাত্রনেতা উক্যমং মারমা এবং আদিবাসী ফোরাম বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উছো মং মারমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে মন্ত্রণালয়টির নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা ও দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন