
আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জোটের নেতারা।
এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ছিলেন।
মনোনয়ন দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জানান, ১১ দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে।
অলি আহমদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি অলি আহমদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই জোট তাঁকে প্রার্থী করেছে।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সমর্থক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য শুধু জয়লাভ করা নয়। তাঁরা চান নির্বাচনটি যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় এবং সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
তাঁর ভাষ্য, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে একাধিক বিকল্প থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে এবার সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে নির্বাচন আরও অর্থবহ হবে।
গণভোটে সংস্কারের পক্ষে জনগণের মতামত পাওয়ার পরও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে অলি আহমদের পক্ষে আরও একটি মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। ওই মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি এবং সমর্থক ডা. মাহমুদা মিতু এমপি।
দ্বিতীয় দফায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুর ইসলাম ফরিদী উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা রয়েছে। অলি আহমদের পক্ষে দেওয়া মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে যাচাই শেষে বৈধতা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোটের নেতারা।
মন্তব্য করুন