
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (BGWUC)।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া কর্মসূচিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে মহাসচিব মাহাতাব উদ্দিন শহীদসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এই খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের শ্রমের বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদের নিত্যদিনের ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের ভাষ্য, শ্রমিকদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, শ্রম আইন অনুসরণ করে দ্রুত নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শ্রমিক পরিবারের জন্য রেশন সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। বহুমাত্রিক শ্রমিক কার্ডের আওতায় ১ হাজার টাকার প্যাকেজে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনি ও শিশু খাদ্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
তৃতীয়ত, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি ও আবাসিক কলোনি নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সন্ধ্যাকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতাল স্থাপনের দাবি রয়েছে।
পঞ্চমত, শ্রম আইনবহির্ভূতভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করে তা কারখানার প্রবেশপথে প্রদর্শনের প্রথা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
ষষ্ঠত, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষায় আগামী বছর থেকে জাতীয় পর্যায়ে সব শ্রমিকের জন্য কর্মস্থল দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ স্কিম (EIS) চালুর দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও শ্রমিকদের জীবনমান প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে সরকারের কাছে দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, চিকিৎসা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
মন্তব্য করুন