
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদকবিরোধী পৃথক দুটি অভিযানে গাঁজাসহ এক নারী ও এক পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৃথক সময়ে চালানো এই দুই অভিযানে মোট ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের পর রোববার গ্রেপ্তার দুজনকেই বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রথম ঘটনায়, শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর ইউনিয়নের কুঠিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। এ সময় শ্রীমতি বেনী রায়ের (৪০) টিনশেড বাড়ির সামনে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি, পরে নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করলে তার দেখানো মতে শয়নকক্ষের খাটের তোষকের নিচে থাকা একটি পলিথিনের প্যাকেট থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। কুঠিবাড়ী গ্রামের শ্রী শম্ভু রায়ের স্ত্রী বেনী রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
একই দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয় কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর বাজারের ঘাটপাড়া এলাকায়। উপপরিদর্শক মো. সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে টহলরত পুলিশ দল কান্তনগর বাজার এলাকায় থাকা অবস্থায় গোপন সংবাদ পায়, ঘাটপাড়ার একটি বন্ধ দোকানের সামনে গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন এক ব্যক্তি। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন বিলচাপড়ী (ডেক্রাঘাট) এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল মমিন (৩৬), পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করে পুলিশ। তার হাতে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে পুরোনো খবরের কাগজে মোড়ানো ২০টি পুঁটলিতে থাকা মোট ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল মমিন বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করতেন বলে স্বীকার করেন।
দুটি ঘটনাতেই ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার সারণি ১৯(ক) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বেনী রায়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে, রোববার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে তাকে একইভাবে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজার উৎস কোথায়, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এসবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধুনট উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মন্তব্য করুন