
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন বাংলাদেশি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সীমান্তের ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
নিহত দুজন হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে আসাদুল হক এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম। আহত ব্যক্তি একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোররাতে চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছাকাছি এলাকায় তিন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল। গুলিতে তিনজনই আহত হন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হক ও মোস্তাকিম মারা যান। অপর আহত শ্রী উদা বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ হিসেবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তারা। পরে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন