
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চান্দিনা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন’-এর উদ্যোগে নবীনবরণ ও চড়ুইভাতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় স্বপ্নচূড়া রিসোর্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার। প্রধান আলোচক ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মো. নূরুল আলম চৌধুরী নোমান, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের (বার্ড) উপপরিচালক কামরুল হাসান এবং থানা শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারসহ সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর নিজ নিজ অবস্থানে কে কোথায় আছেন, তা বিবেচনা করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে নিজেকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে নিজের যোগ্যতায় ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। এই সময়ে আপনাকে হয় শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হতে হবে, নয়তো অন্য কোনো ক্ষেত্রে ভালো করতে হবে। মাঝামাঝি হওয়া যাবে না।”
বার্ডের উপপরিচালক কামরুল হাসান বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আয়োজনটি স্বেচ্ছাশ্রমের একটি উদাহরণ। শুধু নিজেকে বা নিজের পরিবারের স্বার্থকে কেন্দ্র করে জীবন পরিচালনা করলে সেটি সুন্দর জীবন নয়। নিজের সময়, অর্থ ও শ্রম যখন আমরা অন্যের জন্য ব্যয় করি, তখন মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ও সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই সীমিত সুযোগ-সুবিধা থেকে উঠে এসে আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়েও অনেকে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। সাফল্য নির্ভর করে নিজের সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর ওপর। অ্যালামনাই হিসেবে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রীতি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ থাকা খুবই জরুরি।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশার বলেন, “দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর আমরা আজ এমন একটি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এর আগে ফ্যাসিবাদী পরিবেশে আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের পাশে ছাত্রদল ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চান্দিনার অনেক গুণী মানুষ রয়েছেন, যারা বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। এছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সূচনাও চান্দিনার কৃতী সন্তানদের হাত ধরেই হয়েছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, “আজকে যারা কথা বলে গেছেন, তাদের প্রতিটি কথায় একেকটি মেসেজ ছিল। নেক্সট জেনারেশনকে একটি মেসেজ দিতে হবে—এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এখানে সবাই মেধাবী। তবে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও যদি তোমরা কোনো মেসেজ নিয়ে যেতে না পারো, তাহলে সেটি তোমাদেরই ব্যর্থতা।”
তিনি আরও বলেন, “যে বিষয়ই পড়ো না কেন, সামনে নিজেকে যেকোনো সেক্টরে অ্যাডাপ্ট করে নেওয়ার মতো যোগ্য করে তুলতে হবে। বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে দেশ কীভাবে এগোচ্ছে, সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করাও অত্যন্ত জরুরি।”
সংগঠনের সভাপতি মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন , “চান্দিনা স্টুডেন্টস্ অর্গানাইজেশন শুধু একটি সংগঠন নয়,এটি একটি পরিবারের মতো।পরিবারের মতো সবাই এখানে এক সদস্য আরেক সদস্যের সাথে যুক্ত থাকে।এটি আমাদের প্রথম প্রোগ্রাম ছিলো।অনেক ভুল-ত্রুটি ছিলো।আশাকরি আগামীতে আরো সুন্দর প্রোগ্রাম উপহার দিতে পারবো।”
মন্তব্য করুন