
খুলনার ঐতিহ্যবাহী খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত পৌনে দশটার দিকে নগরের ময়লাপোতা মোড়ের কাছে অবস্থিত এই ১৭ তলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পর পর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত জেনারেটর কক্ষের দিক থেকে প্রথমে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই জীবন বাঁচাতে ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দ্রুত নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। ধোঁয়ার কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা আটকা পড়েন, যাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করেন।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী জানান, ভবনের নবম ও দশম তলাসহ ওপরের তলাগুলোতে থাকা আইসিইউ এবং কেবিনের রোগীরা নিরাপদে ছিলেন। তবে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পুরো হাসপাতাল জুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উদ্ধার কাজ নির্বিঘ্ন করতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়া ও সুপ্ত আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপনে তাদের কর্মীরা তখনো কাজ করছিলেন। তবে আশার কথা হলো, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের খুলনার উপপরিচালক মাসুদ সরদার জানিয়েছিলেন, আগুন মূলত বেজমেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং তা ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি, যার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য করুন