
বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন তিনি। তবে হাটহাজারী থানা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ঘটনার প্রকৃত রহস্য। পরে রাঙ্গুনিয়া থেকে কথিত ভিক্টিমসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) হাটহাজারী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মূল পরিকল্পনাকারী মো. রাশেদুল আলম (৩৮) এবং তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পি (৩২)।
নিখোঁজের জিডি, পরে মুক্তিপণের ভিডিও
পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই বিকেলে রাশেদুল আলমের স্ত্রী রীনা আক্তার হাটহাজারী মডেল থানায় স্বামী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দুই দিন পর তিনি থানায় এসে একটি ভিডিও দেখান।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি রামদা গলায় ধরে রাশেদুলকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উত্তেজনা সৃষ্টি, পুলিশের তদন্ত অব্যাহত
ভিক্টিমকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে হাটহাজারী থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যায়।
রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান, বেরিয়ে আসে আসল রহস্য
ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ৭ জুলাই ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিওতে অংশ নেওয়া তার দুই সহযোগী ইমরান ও বাপ্পিকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের নাটকের স্বীকারোক্তি
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে অপহরণের শিকার হননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হওয়ায় পাওনাদারদের চাপ থেকে বাঁচতেই আত্মগোপনে যান। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ দাবির ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেন, যাতে সবাই মনে করে তিনি সত্যিই অপহৃত হয়েছেন।
পুলিশের সতর্কবার্তা
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা কিংবা পুলিশকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে সাজানো ঘটনা বা মিথ্যা তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন