
উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে লালমনিরহাটসহ তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল ছিল ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের তিন ঘণ্টায় পানির উচ্চতা বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার।
পরবর্তীতে রাত ১১টার সর্বশেষ তথ্যে পানি আরও ১ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫২ দশমিক ২৩ মিটারে পৌঁছায়, যা বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টার দিকে পানি সমতল স্থিতিশীল হওয়ার পর ধীরে ধীরে কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৩৯০ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ২৬৪ মিলিমিটার, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ১৬২ মিলিমিটার, অরুণাচলের পাসিঘাটে ১৫২ মিলিমিটার, আর. কে. এম. সোহরায় ১৪২ মিলিমিটার, খিলহরিয়াতে ৭৫ মিলিমিটার, কোচবিহারে ৬৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন