
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণ নিয়ে ডিলার পয়েন্টে ভাঙচুর ও সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উঠান বৈঠক ও বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভূরুঙ্গামারী থানার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাদক, অনলাইন জুয়া, সাইবার বুলিং, চুরি, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুই শতাধিক কৃষক সার নিতে অপেক্ষা করলেও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে কার্যক্রম চলছে।
ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের অনুকূলে মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দের কথা জানা গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়। তবে ডিলার পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ পেয়েও কৃষকদের মধ্যে বিতরণে গড়িমসি করেছেন—এমন অভিযোগও ওঠে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে নৈশপ্রহরা জোরদার এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আইনানুগভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, “পুলিশ একা অপরাধ দমন করতে পারবে না, এর জন্য জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
সভা শেষে তিনি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন