
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানগুলোতে আমন্ত্রন জানানো হয়নি জেলার একমাত্র জীবিত বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বীর প্রতীককে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমাকে জেলা প্রশাসনের কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হলো না।’
আমন্ত্রন জানানোর বিষিয়ে তিনি আরও বলেন, “কয়েকবার ফোন করার পরও এডিসি জেনারেল তার ফোন ধরেন নি। এডিসি রেভিনিউ কে ফোন করলে তিনি পরে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন। মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক জানান, এডিসি রেভিনিউ আরও বললেন যে বিষয়টি এডিসি জেনারেল দেখেন এবং তার সাথে কথা বলতে বলতে।”
শহীদ মিনারে উপস্থিত সাংষ্কৃতিক কর্মীরা বলেন, ১৯৭১ সালে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন যেসব বীর সন্তানেরা, তাঁদেরই একজন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন আজিজুল হক।
দীর্ঘদিন ধরে ১৬ই ডিসেম্বর হোক বা ২৬শে মার্চ, তিনি সুসজ্জিত হয়ে, বুকে খেতাবের পদক ধারণ করে, স্বাধীনতা ও বিজয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তাঁর উপস্থিতি যেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই সম্মানিত প্রতিনিধিত্বের প্রতীক।
কিন্তু আজ, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা দিবসের কুজকাওয়াজের মঞ্চে তিনি নেই? কেন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলো না? তিনি একজন ব্যক্তি নন, বরং আমাদের ইতিহাস, আমাদের আত্মপরিচয়, আমাদের অহংকার।
তার এই অসম্মান আমাদের সম্মানবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন কি পরিকল্পিতভাবে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে উপেক্ষা করলো?
মন্তব্য করুন