
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলাধীন কড়ইবাড়িয়া বাজারে অবৈধভাবে জমি দখল করার অপরাধে মো: মোস্তফা জোমাদ্দার নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে নালিশী বর্ণিত জমিতে যে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা ওসি তালতলীকে দ্রুত অপসারণ করার জন্য আদেশ প্রদান করছেন বিজ্ঞ আদালত।
আমতলী উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ইফতি হাসান ইমরান সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়াল সম্পন্ন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলার উত্তর ঝাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মোসা: খাদিজা বেগম এর কড়ইবাড়িয়া বাজারে থাকা দোকানের জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর তোলার অভিযোগে বিগত ২৬/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি (সি, আর ১০৩/২৬) মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগকারী ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় তার জমি উদ্ধারের দাবি জানান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই সংক্ষিপ্ত বিচার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিট পর্যন্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ইফতি হাসান ইমরান সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে অবস্থান করেন। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তাদের মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য গ্রহণ করেন, জমি মাপঝোঁক করান এবং উভয় পক্ষের কাগজ পত্র পর্যালোচনা করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অপরাধটি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রায় ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩-এর ৭ ধারায় অত্র মামলার ১ নং আসামি মো: মোস্তফা জোমাদ্দারকে ৩০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে উক্ত আইনের ২০ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫২২ ধারা মোতাবেক বিরোধপূর্ণ জমির ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ওসি তালতলী অপসারণ করিবে এবং অভিযোগকারী মোসা: খাদিজা বেগমকে বেদখল হওয়া জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবু বকর সিদ্দিক এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের এই সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। একজন বিচারক নিজে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছে এবং ভূমি দস্যুদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে ভবিষ্যতে কাজ করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীরা।
মন্তব্য করুন